কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: সোমবার, ২৩ মার্চ, ২০২৬ এ ০৮:৩৬ PM

এক নজরে

কন্টেন্ট: পাতা

১৯৮০ সালের ১ মার্চ কলেজটি জাতীয়করণ করা হয়। বর্তমানে খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) ও স্নাতক পর্যায়ের পাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে রসায়ন, ইতিহাস, অর্থনীতি ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে অনার্স; রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স; এবং বি.এ (পাস), বি.বি.এস (পাস) ও বি.এস.এস (পাস) কোর্স চালু রয়েছে। তদুপরি, হিসাববিজ্ঞান, ইংরেজি এবং দর্শন বিষয়ে অনার্স কোর্স অনুমোদনের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এছাড়াও, খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজ কেন্দ্র বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়-এর উচ্চ মাধ্যমিক ও ডিগ্রি কোর্স চালু আছে। বহুমুখী পরীক্ষা কেন্দ্র হিসেবে এই কলেজ কেন্দ্রের সুনাম রয়েছে। বর্তমানে এ কলেজে প্রায় চার হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। এ কলেজে অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ পদসহ সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক, প্রভাষক, প্রদর্শক ও শরীরচর্চা শিক্ষকের মোট ৪৮টি পদ রয়েছে। এই পদগুলোর বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন ৪১ জন শিক্ষক। শ্রেণিভুক্ত পদ থেকে শুরু করে ২০টি মোট ৮০টি কর্মচারী পদ রয়েছে, যার মধ্যে ১১ জন সরকারি কর্মচারী বর্তমানে আছে।

একটি দ্বিতল প্রশাসনিক কাম একাডেমিক ভবন, একটি পাঁচতলা একাডেমিক ভবন এবং একটি তিনতলা একাডেমিক ভবন নিয়ে এই কলেজটি প্রশাসনিক ও শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা করে। শ্রেণিকক্ষ ছাড়াও এখানে আছে একটি গ্রন্থাগার, একটি কমন রুম, পাঁচটি মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম এবং একটি সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার। আধুনিক ডিজিটাল যুগের চাহিদা পূরণে কলেজে আধুনিক কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে। তদুপরি, ছাত্রীদের আবাসন সুবিধার জন্য রয়েছে কলেজ সংলগ্ন বিশেষ আবাসিক হলের ব্যবস্থা। এছাড়াও, কলেজের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থান সিসিটিভি ক্যামেরার আওতাধীন করা হয়েছে।

সুবিন্যস্ত আসনবিন্যাস, আধুনিক শিক্ষাসামগ্রী এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীর আন্তরিক সম্পর্ক শিক্ষা প্রক্রিয়াকে কার্যকর করে তোলে। শ্রেণিকক্ষ শুধু পাঠদানের জন্য নয় বরং শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব ও ব্যক্তিত্ব বিকাশের ক্ষেত্র হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাছাড়া, বিজ্ঞানের বিষয়সমূহে ব্যবহারিক দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে তাত্ত্বিক শিক্ষার পাশাপাশি ব্যবহারিক শিক্ষায়ও এখন বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। আধুনিক গবেষণা, প্রযুক্তি এবং দক্ষ শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা অর্জন করে।

শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্ব অপরিসীম। কলেজের মাঠে নিয়মিত ক্রিকেট, ফুটবল, ব্যাডমিন্টন, ভলিবল প্রভৃতি খেলার সুব্যবস্থা রয়েছে। খেলাধুলা শিক্ষার্থীদের সুস্থ শরীর গঠনে যেমন সহায়তা করে, তেমনি পারস্পরিক সহযোগিতা, অনুশীলন, নিয়ম মেনে চলা, শৃঙ্খলা, দলগত কাজের মানসিকতা ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করে। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সংগীত, নৃত্য, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, নাট্যাভিনয় ও সাহিত্যচর্চা শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকাশে সহায়ক ভূমিকা রাখে। বিভিন্ন জাতীয় দিবস ও উৎসব উপলক্ষে কলেজে নানা আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়, যা শিক্ষার্থীদের দেশপ্রেম ও মূল্যবোধ গঠনে সহায়তা করে।

খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজের শিক্ষকরা আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সাথে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও মানসিক স্বাস্থ্যের বিকাশে অবদান রেখে চলেছেন। তারা কেবল পাঠদানেই সীমাবদ্ধ নন বরং শিক্ষার্থীদের নৈতিক মূল্যবোধ, উদ্ভাবনী চিন্তা এবং সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। এরই প্রভাবে জেলা ও জাতীয় পর্যায়ের নানা প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীরা সাফল্য অর্জন করছে।

পরিশেষে বলা যায়, খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজ শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়; এটি পার্বত্য চট্টগ্রামের উচ্চশিক্ষার এক উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত এ কলেজ শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে—এটাই প্রত্যাশা।

ফাইল ১

এক্সেসিবিলিটি

স্ক্রিন রিডার ডাউনলোড করুন